বৃহস্পতিবার, ১৬ Jul ২০২৬, ০৬:৪৯ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের ৬ কর্মকর্তার অভিনব পদোন্নতির ঘটনা তদন্তে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১ টায় দুদক রাজশাহী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একটি টিম সরেজমিনে তদন্ত করতে যান।
এসময় দুদক রাজশাহীর সহকারী পরিচালক আলম হোসেন সাংবাদিকদের জানান, পদ না থাকলেও মনগড়া পদ তৈরি করে কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ঘটনা তদন্তের জন্য তারা শিক্ষাবোর্ডে যান। তবে শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোকবুল হোসেন দেশের বাইরে থাকায় তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের সপ্তম গ্রেডের ছয় কর্মকর্তাকে ষষ্ঠ গ্রেড সুপারসিড করে পঞ্চম গ্রেডের পদোন্নতি দিয়ে গত ১৫ জানুয়ারি পদোন্নতির প্রজ্ঞাপন জারি করেন চেয়ারম্যান মোকবুল হোসেন। বোর্ডসভা ছাড়াই চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরে জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ছয় কর্মকর্তার অভিনব পদোন্নতির আদেশ চ্যালেঞ্জ করেন সচিবসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
শিক্ষাবোর্ড সূত্র জানায়, উপ-সচিব (ভান্ডার, চলতি দায়িত্বে, উপকরনাদি শাখা) মো. ফরিদ হাসানকে উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (জেএসসি); উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (স্ক্রিপ্ট, চলতি দায়িত্বে) রুবীকে উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (স্ক্রিপ্ট); উপ-সচিব (ভান্ডার, চলতি দায়িত্বে) মোহা. দুরুল হোদাকে উপ-সচিব (ভান্ডার); সহকারী সচিব (প্রশাসন) খোরশেদ আলমকে উপ-সচিব (প্রটোকল); সহকারী ক্রীড়া অফিসার মো. নুরুজ্জামানকে উপ-বিদ্যালয় পরিদর্শক (রেজি.) ও গণসংযোগ অফিসার সুলতানা শামীমা আক্তারকে লাইব্রেরি এন্ড ইনফরমেশন ডকুমেন্টেশন অফিসার পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড পরিচালিত হয় ১৯৬১ সালের অর্ডিন্যান্স এসআর-৬৫ ও ১৯৯৭ সালের প্র-বিধিমালা অনুসারে। সে অনুযায়ী যেসব পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে, সেগুলো আইনে নেই। এছাড়া অফিস আদেশে সিলেকশন কমিটির ২১ এপ্রিল ২০১৭ তারিখের সভার উল্লেখ করা হয়েছে। ওই সভার সুপারিশে ৯ জনকে ৬ষ্ঠ গ্রেডে বেতন দেওয়া হচ্ছে। একই সভার সুপারিশে ৬ষ্ঠ গ্রেড সুপারসিড করে ৫ম গ্রেড কিভাবে দেওয়া যায়? প্রশ্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। বিষয়টি বিধিসম্মত নয়, পূর্বে এমন কোনো পদোন্নতি হয়নি। ডেপুটেশনের ৬টি পদ ছাড়া শিক্ষাবোর্ডে আর কোন ৫ম গ্রেডের পদ নেই। ২০১৯ সালের জনবল কাঠামো নিজেদের সৃজিত, এতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ও বোর্ড সভার কোন অনুমোদন নেই।
জানতে চাইলে শিক্ষাবোর্ডের সচিব অধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, সাম্প্রতিক ৬ জনের পদোন্নতির বিষয়ে তিনি অবগত নন। পদোন্নতির অফিস আদেশে তার স্বাক্ষর নেই। ওই পদোন্নতি নিয়ে জটিলতা এবং সচিবের কাছে নথি না থাকায় তিনি সকলকে পূর্বের পদ-পদবি অনুসারে বেতন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কারও অন্যায় স্বার্থ হাসিলের জন্য তিনি অনিয়ম করতে পারবেন না। যতক্ষণ সচিবের দায়িত্বে থাকবেন নিয়মের মধ্যেই কাজ করবেন।
দুদক রাজশাহীর সহকারী পরিচালক আলম হোসেন বলেন, ‘তদন্তে পদোন্নতির বিষয়ে অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। এছাড়া শিক্ষাবোর্ডের বেশকিছু কর্মকর্তাকে দায়িত্বরত বা অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যা কর্মকর্তাদের স্ব-স্ব নেমপ্লেটে রয়েছে। সেগুলো দ্রুত অপসারণের জন্য বলা হয়েছে।’
নগরকন্ঠ.কম/এআর